ফেনী জেলা প্রতিনিধিঃ
স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারে গুরুতর ভুলের কারণে প্রাণ হারান সীমা রানী; হাসপাতাল ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য মেলেনি
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতাল, ইউনিক হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সীমা রানী (৩৫)-এর স্বজনরা দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. টুম্পা দেবনাথের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগ এনে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রসব ব্যথা নিয়ে সীমা রানীকে ইউনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের ভুলে রোগীর জরায়ু ক্ষতিগ্রস্ত বা কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হলে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে কুমিল্লা এবং পরে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সীমা রানীকে পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও রক্তশূন্যতার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে তিন দিন বয়সী এক নবজাতক সন্তান মাতৃহারা হয়।
নিহতের ভাই পলাশ অভিযোগ করে বলেন, “চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এদিকে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. টুম্পা দেবনাথের বিরুদ্ধে অতীতেও অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত জটিলতা ও রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া কিছু অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিভিন্ন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ইউনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. টুম্পা দেবনাথের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং নিহতের স্বজনরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায় নির্ধারণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত চিকিৎসা অবহেলা, ভুল অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য অভিযোগগুলো নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় সূত্রের দাবি। এগুলোর বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।



















