এম এ কাদের অপুঃ কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। জেলা কার্যালয়ের “খ” সার্কেলের একটি দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের পৃথক দুটি সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও নগদ টাকাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক মাদক মামলার কুখ্যাত এক আসামিও রয়েছে।
০২ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টা থেকে ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডস্থ নূরজাহান হোটেলের বিপরীতে এক ঝটিকা অভিযান চালায় ডিএনসি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পার্শ্বে শ্রীবল্লভপুর এলাকায় অভিযুক্ত আসামি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৪৮)-এর দখলীয় এক কক্ষ বিশিষ্ট ঘরে তল্লাসি চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

তল্লাশিকালে তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়:
ইয়াবা: একটি নীল রঙের জিপার লক ব্যাগ থেকে ৫৪ (চুয়ান্ন) পিস অ্যাম্পিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট।
গাঁজা: একটি শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে ০১ (এক) কেজি লুজ গাঁজা।
বিদেশী বিয়ার: ০৩ (তিন) পিস ভারতীয় ‘Kingfisher’ ব্র্যান্ডের ৫০০ এমএল এর বিয়ার।
নগদ টাকা: মাদক বিক্রির নগদ ৫,৬৭০/- (পাঁচ হাজার ছয়শত সত্তর) বাংলাদেশী টাকা।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর আলম একজন পেশাদার ও চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫টি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। মামলাগুলো হলো: সদর দক্ষিণ থানার মামলা নং-৫৫ (২৮/০৮/১৮), মামলা নং-২৫ (১৭/০৬/১৮), মামলা নং-১৬ (০৯/০৮/১৭), মামলা নং-৫০ (২১/০৭/১৭) এবং সাম্প্রতিক মামলা নং-১২ (০৭/০৫/২৬)। নতুন এই অভিযানের পর তার বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আরও একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মোবাইল কোর্টের থাবা: জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৩ মাদকসেবীর কারাদণ্ড
এদিকে একই দিনে সদর দক্ষিণ মডেল উপজেলা এলাকায় অপর একটি মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে এবং সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় এই মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে প্রকাশ্য স্থানে মাদকসেবন করে জনসাধারনের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অপরাধে ৩ জন মাদকসেবীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অপরাধ স্বীকার করায় বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের এই অভিশাপ থেকে কুমিল্লাকে মুক্ত করতে তাদের এই ধরনের ঝটিকা ও নিয়মিত অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।



















