নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানার আওতাধীন ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ঘুষের কারবারের অভিযোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। শিল্পাঞ্চল ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও, এসব সদস্যদের মূল লক্ষ্য এখন সাধারণ মানুষ, সিএনজি চালক, অটোচালক ও ব্যবসায়ীদের পকেট কাটা। ভুক্তভোগীদের মতে, এখানে আইনের সেবার চেয়ে হয়রানিই মিলছে বেশি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইপিজেড সংলগ্ন সড়কগুলোতে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক এবং পণ্যবাহী ট্রাক থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়। কোনো চালক টাকা দিতে অস্বীকার করলে বা দেরি করলে তাকে নানা আইনি জটিলতায় ফেলার ভয় দেখানো হয়। এমনকি কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে গাড়ি আটকে রেখে টাকা দাবি করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়িতে ‘ওপেন সিক্রেট’ চাঁদাবাজি ও ঘুষ বাণিজ্য: অতিষ্ঠ জনজীবন.
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা শান্তিতে সিএনজি চালাতে পারছিনা পারছি না। পুলিশের নির্দিষ্ট লোক এসে প্রতিদিন টাকা নিয়ে যায়। প্রতিবাদ করলে পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়।পরে নিরুপায় হয়ে চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে আমরা বাধ্য হই।
থানা বা ফাঁড়িতে সাধারণ মানুষ যায় সাহায্যের আশায়। কিন্তু এই ফাঁড়িতে কোনো সাধারণ জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করতে গেলেও বকশিশের নামে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে অভিযোগ নিতে গড়িমসি করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেক সেবাগ্রহীতা। বিশেষ করে মারামারি সংক্রান্ত বিরোধের মিমাংসার নামে উভয় পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ এখন মুখে মুখে।
পুলিশের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ মনে করেন, মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু সদস্যের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অতি দ্রুত জেলা পুলিশ সুপার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা চান, দুর্নীতিগ্রস্ত এসব সদস্যদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং ইপিজেড এলাকায় পুলিশের সেবামূলক ও স্বচ্ছ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
এইদিকে এমনই এক অভিযোগ এনে এই ফাঁড়ির এক দারোগা জামাল হোসেনের নাম ও অজ্ঞাত আরও ২ জন পুলিশ সদস্যের নামে পুলিশ হেডকোয়ার্টের আজ ১৩ মে ২০২৬ দুপুর ১২.১৫ মিনিটের সময় একটি অভিযোগ দায়ের করেন একজন ভুক্তভোগী।


















