ঢাকা আজ সোমবার , ৮ জুন ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. ইসলাম
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. বাংলাদেশ
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. বিশ্ব
  10. মতামত
  11. রাজনীতি
  12. সর্বশেষ
শিরোনাম:

২৫ বছর ধরে মেধার সন্ধানে মুকুন্দপুরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, ৩১ অক্টোবর মেধাবৃত্তি পরীক্ষা

দাউদকান্দিতে ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, প্রাইভেটকার জব্দ

মতলব দক্ষিণে গৃহবধূর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী ও শ্বশুরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আদালতের নির্দেশকে পাত্তাই দিলোনা শাহরাস্তি থানা পুলিশ! মিথ্যা আশা দিয়ে মায়ের বুক খালি করে ৭ বছরের শিশু সাবিনা কে পাঠিয়ে দিলো বিদেশে!

বিশ্বাস ভিত্তিক সমন্বিত শিক্ষাকারিকুলাম চালু করার আহ্বান দারুল আজহার মডেল মাদ্রাসার কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় অতিথিবৃন্দ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক আপসহীন প্রতিচ্ছবি: কান্দিরপাড়ের জনমনে স্থান করে নিয়েছেন, যাকে চেয়ারম্যান হিসেবে চায় জনগণ তিনি মোঃ সেলিম রানা

লাকসামে প্রবাসীর পরকীয়ায় ভাঙলো সংসার: আদালতের নির্দেশে নানার বাড়ি থেকে নাবালিকা আনিকাকে উদ্ধার করলো পুলিশ!

বাবার মৃত্যুতে ঢোল-বাঁশি বাজানোর কাণ্ড: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়, ক্ষমা চাইলেন সন্তান।

প্রতিবেদক
bbcbarta
জুন ৮, ২০২৬ ১২:২২ অপরাহ্ণ

​এ.এস.এম হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: ​কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বৃদ্ধ বাবার মৃত্যুর পর ‘শোককে শক্তিতে রূপান্তর’ করার অভিনব এক চেষ্টা চালিয়েছেন সন্তান। তবে মরদেহ বাড়িতে রেখে ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে এমন উল্লাসের ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

​রোববার (৭ জুন) কটিয়াদী পৌরসভার কাহেতেরটেকি গ্রামের বাসিন্দা শামসুদ্দিন বার্ধক্যজনিত কারণে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন।

আত্বীয়-স্বজনরা যখন তাঁর দাফন-কাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। মরদেহ গোসল করানোর আগে নিহতের ছেলে খাইরুল ইসলাম বাড়িতে ঢোল ও বাঁশিবাদক দল নিয়ে এসে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করেন।

ঢোল-বাঁশি বাজানোর এই দৃশ্যটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভিডিওটি ভাইরাল হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দা ও পুরো জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই একে ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম পরিপন্থী বলে কঠোর প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে মরহুমের জানাজার নামাজ আয়োজন করা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়।

​গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ পাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও বেগতিক রূপ নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় আলেম সমাজ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সবাইকে শান্ত করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে ও মধ্যস্থতায় ছেলে খাইরুল ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও স্পর্শকাতর ঘটনার জন্য সবার সামনে জোড়হাতে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান তিনি। এরপর বিকেলে ধর্মীয় রীতি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে জানাজা শেষে মরহুম শামসুদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়।

​জানাজার পূর্বে উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে ক্ষমা চেয়ে খাইরুল ইসলাম বলেন,
“জীবিত অবস্থায় আমার বাবা আমাকে অসিয়ত করেছিলেন—তার মৃত্যুর পর যেন আমরা অতিরিক্ত কান্নাকাটি বা শোক প্রকাশ না করি, বরং আনন্দের সাথে হাসিখুশি মুখে যেন তাকে বিদায় দিই। বাবার সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়েই আবেগের বশে আমি এমনটি করে ফেলেছি। আমার এই কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমাকে আন্তরিকভাবে ক্ষমা করে দেবেন।”

​এ বিষয়ে স্থানীয় ইমাম মাওলানা তফাজ্জল হক রাশেদীন বলেন,”ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কারো মৃত্যুতে সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও মরহুমের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ সামনে রেখে ঢোল-বাঁশি বাজানো ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ও সামাজিক সংস্কৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত বিষয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সমাজের সবাইকে আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত