বিশেষ প্রতিবেদন:
বাহরাইন প্রবাসী স্বামীর ঘাম ঝরানো উপার্জনে গড়া সংসার ছেড়ে অন্য ইতালী প্রবাসীর ভালোবাসায় মত্ত হয়ে বাহরাইন প্রবাসী স্বামীকে তালাক দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
শুধু সংসার ছেড়েই ক্ষান্ত হননি, সাথে রেখে দেন নিজের ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা কন্যা সন্তানকেও। অবশেষে আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট জারি এবং লাকসাম থানা পুলিশের ঝটিকা অভিযানে নানার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেই নাবালিকা কন্যাকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের শ্রীপুর গ্রামে।
মামলার নথি ও অনুসন্ধানে জানা যায়, লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আবদুল গফুর মজুমদারের ছেলে নাছির আহম্মদ মজুমদার দীর্ঘ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে কর্মরত রয়েছেন। ২০০৭ সাল থেকে প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে উপার্জিত সমুদয় অর্থ তিনি পরিবারের সুখের জন্য দেশে পাঠাতেন।
২০১০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ধর্মীয় বিধান মতে তিন লক্ষ টাকা দেনমোহরে এক লক্ষ টাকা উসুলে পৌরসভা ১নং ওয়ার্ড শ্রীপুর গ্রামের হাজী আব্দুর রহমানের মেয়ে হাছিনা আক্তারের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোল আলো করে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান, যার নাম আনিকা তাবাচ্ছুম বর্তমান বয়স ১৪ বছর।
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় নাছির আহমেদ বিবাহের সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার স্ত্রীকে ভালোবেসে প্রদান করেন।যা আজকের স্বর্ণের বাজার অনুযায়ী দাম আসে ১৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ২শ ৩২ টাকা। শুধু কি তাই? শশুর বাড়ির ভালোবাসা পেতে পরবর্তীতে শ্বশুরের জমি কেনার কথা শুনে নগদ ৭ লক্ষ টাকা ও গ্যাসের রাইজার বসাতে আরো ৭৫ হাজার টাকা তুলে দেন স্ত্রীর হাতে। এমনকি নিজের বাড়ির গাছ কেটে এনে স্ত্রীকে উপহার দেন দামী খাট, আলনা, সোফা ও ওয়্যারড্রপ।
তবে প্রবাসে থাকা স্বামীর সরলতার সুযোগে গোপনে অন্য এক প্রবাসীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়ান হাছিনা আক্তার। একপর্যায়ে অন্য প্রবাসীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে তিনি স্বামীর সংসার ধ্বংসের পথে ঠেলে দেন। প্রবাস থেকে নাছির আহমেদ একাধিকবার স্ত্রীকে নিজের ঘরে ও সংসারে ফিরে আসার আকুতি জানালেও হাছিনা আক্তার সে সবে কান দেননি; বরং পিতৃালয়ে অবস্থান করে উল্টো স্বামীকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়ে দেন।
নিজের একমাত্র নাবালিকা কন্যা আনিকা তাবাচ্ছুমকে স্ত্রী ও তার পরিবার বেআইনিভাবে রেখে দিয়েছে এবং তাকে বিদেশে ওই প্রবাসীর কাছে গোপনে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকার আনিকার বাবা নাছির আহমেদ মজুমদার বাদী হয়ে বিজ্ঞ সি.আর.পি.সি ২নং আদালত, কুমিল্লায় একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- পি.আর- ৫২৩/২০২৬)।
মামলায় বাদী নাসির অভিযোগ করেন, ১ম বিবাদী হাছিনা আক্তার ও ২য় বিবাদী আবদুর রহিম (স্ত্রীর ভাই) সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে নাবালিকা ভিকটিম আনিকা তাবাচ্ছুমকে শ্রীপুরস্থ বসতঘরের পশ্চিম ভিটির বিল্ডিংয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে রেখে অযত্ন-অবহেলায় দিন কাটাচ্ছিল।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারার বিধান মতে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ‘সার্চ ওয়ারেন্ট’ (Search Warrant) বা তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করেন (পরোয়ানা নং- ৫২৬/২৬)।
বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনার পর লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে এএসআই কামাল তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শ্রীপুর গ্রামে বিবাদীদের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চালিয়ে বিবাদীদের হেফাজত থেকে নাবালিকা আনিকা তাবাচ্ছুমকে ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং তারিখে উদ্ধার করে লাকসাম থানায় নিয়ে আসে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত নাবালিকা ভিকটিমকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

















