বিশেষ প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ মোতালেব নামক সৌদি আরব প্রবাসী। ১ম স্ত্রী তার নিজ বাড়িতে থাকা অবস্থায়, ২য় আরেকটি বিয়ে করেন।
প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে না জানিয়ে, কোনো অনুমতি ছাড়াই তিনি এক হিন্দু নারীকে মুসলিম বানিয়ে তাকে বিয়ে করে স্থানীয় মুদাফরগঞ্জ বাজারের একটি ভাড়া বাসায় রাখেন। চলতি বছরের শুরুতেই বিয়ে সম্পন্ন করে ভাড়া বাসায় রেখে আবারও ফাঁড়ি জমান প্রবাসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সম্প্রতি সৌদি আরব পাড়ি জমান মোতালেব। প্রবাসে যাওয়ার আগেই তিনি তার সাবেক এক হিন্দু সহপাঠীকে (ক্লাসমেট) কে হিন্দু থেকে মুসলমান বানিয়ে স্বামীর সংসার থেকে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে ওই নারী কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হলেও তার জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রে (NID) নাম ও পরিচয় সংশোধন নিয়েই উঠে নানান প্রশ্ন।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি আইন অনুযায়ী NID বা জন্মনিবন্ধন পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা প্রমাণ দেখাতে পারছেনা প্রবাসীর পরিবার।
গুঞ্জন উঠেছে, মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য নাসরিন আক্তার ও তার স্বামী খোরশেদ আলম পিন্টু এবং ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মকর্তাসহ জন্মনিবন্ধন বানিয়ে বিয়ে করেছে।
জন্মনিবন্ধনে হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়া স্ত্রীর নাম পরিবর্তন হলেও বাবা মায়ের নাম সহ ইত্যাদি পরিবর্তন হয় কি করে?
স্থানীয় মুদাফফরগঞ্জ বাজারের দারুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন কাজী রশিদ মিয়ার ভবনে ভাড়া বাসায় স্ত্রী হিসেবে রাখা হয়েছে নওমুসলিম নারীকে। মোতালেবের বোন, স্থানীয় ইউপি মেম্বার নাসরিন আক্তার এবং ভগ্নিপতি খোরশেদ আলম মিন্টু সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে জানা যায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাছাড়া NID বা জন্ম নিবন্ধন সংশোধন না করে ভুয়া নথিতে কাবিন করা দণ্ডবিধির ৪৬৫ ও ৪৭১ ধারায় চরম জালিয়াতি। যদি সংশোধন করেই থাকে তাহলে কে করলো আর কোথায় কোন আইনের কোন ধারায় সংশোধন করলো তা কোনো কিছুই স্বীকার করেও করছেনা ইউপি সদস্য নাসরিন।
এদিকে প্রবাসে বসে অঢেল টাকার গরমে মোতালেব কাউকে পরোয়া করছেন না বলে এলাকাবাসী জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসকনসহ স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়ে উসকানিমূলক পোস্টের পাশাপাশি, অনুসন্ধানে নামা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস এবং জন্ম নিয়েও স্ট্যাটাস দিচ্ছে হিন্দুদের বিরুদ্ধে গর্জন দেওয়া মোতালেব। অথচ এই হিন্দু মেয়েকেই তার স্বামীর ঘর থেকে নিয়ে এসে স্ত্রী বানিয়ে রেখে দিলেন ভাড়া বাসায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ ও বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকার জনগণ।
ইসলামের পক্ষে কথাবলা মোতালেব ইসলামকে ব্যবহার করে একটি বিবাহিতা হিন্দু মেয়ে, যিনি তার হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি হিন্দু থাকা অবস্থায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে সেই নারী মোতালেব এর ক্লাস ফ্রেন্ড হওয়ার সুবাদে তিনি তার সহযোগিতায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপরে তার প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটয়ে বর্তমানে মোতালেবের স্ত্রী হয়ে বসবাস করছেন।
ইসলাম ধর্মে স্পষ্ট উল্লেখ্য আছে, কোনো কাফের বিবাহিতা নারী যদি মুসলমান হতে চায় তবে তাকে তার স্বামীসহ মুসলমান হতে হবে বলে জানিয়েছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা।



















