চট্রগ্রামের সীতাকুন্ডের কদমরসুলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্রয়ে বেড়েই চলেছে অবৈধ মাদকের কারবার ও জুয়ার আসর। মাদক কারবার থেকে বাদ পড়েনি নারী-পুরুষ কেউই। কদমরসুলের পাড়া-মহল্লায় অনেকটা খোলামেলা ভাবেই চলছে মাদকের বেচাকেনা ও জুয়ার আসর। কাঁচা টাকার লোভে স্থানীয় কিশোর ও যুবকরা বেশি জড়িয়ে পড়ছে অবৈধ এ কারবারে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ভাটিয়ারী কদমরসুল এলাকার কুটুকপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মোঃ খোরশেদ আলম চৌধুরীর মুরগির খামারের ভিতরে বিএনপি নেতা ননা বাদশা’র ছেলে ও যুবদল নেতা এ্যাপোলো’র ভাই কফিল উদ্দিন প্রকাশ কৌপ্পা, ভাই ও বাপের দাপট দেখিয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে চালাচ্ছে মাদক ও জুয়ার আসর। বাহিরে তালা, ভিতরে খেলা তারই নাম কৌপ্পার মাদক ও জুয়ার মেলা।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক ও জুয়ার আসরের চারপাশে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে ৪০/৫০ জনের মত গার্ড। এই গার্ডের সাহায্যে প্রশাসনের সৎ অফিসারদের গতিবিধি লক্ষ্য করে চলছে মাদক ও জুয়ার আসর। আর প্রশাসনের অসৎ অফিসারের অবাধে যাতায়াত আছে মাদক ও জুয়ার আসরে।
সূত্রমতে জানা যায়, মাদক ও জুয়ার আসরে যাতায়াতের রাস্তা ২ টি। একটি স্কুল রোড, অপরটি রুলিং মিল রোড। মাদক ও জুয়ার আস্তানায় ঢোকার গেইট ২টি। একটি বড়, অপরটি ছোট। মেইন রাস্তা দিয়ে প্রশাসনের সদস্য মাদক ও জুয়ার আস্তানায় হানা দিলে পিছনের ছোট গেইট দিয়ে বাহির হয়ে কৌপ্পার বাড়ির সামনে দিয়ে সবাই পালিয়ে যায়। পালিয়ে যেতে সহায়তা করে কৌপ্পার বাবা ননা বাদশা।
জানা যায়, মাদক ও জুয়ার আসর পরিচালনাকারী কৌপ্পার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। যারা প্রতিবাদ করে, মামলা হামলা অত্যাচারে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নেই বলে জানান ভুক্তভোগী জনসাধারণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুয়াড়ি বলেন, মাদক ও জুয়ার আসরে কৌপ্পার সাথে আরো অনেক সহযোগী ও পাটনার রয়েছে। তাদের মধ্যে রাসেল, আরিফ, মুন্সী, সোলাইমান, নুরুল আলম অন্যতম। তারা সবাই কৌপ্পার সাথে মাদক কেনাবেচায় জড়িত। অনেকেরই ৪/৫ টা করে মামলা রয়েছে বলে জানান ঐ জুয়াড়ি। অন্য এক জুয়াড়ির স্ত্রী হাসিনা প্রতিবেদককে বলেন, আমার স্বামী হারুন নিয়মিত কৌপ্পার মাদক ও জুয়ার আসরে যাতায়াত করে। আমার স্বামী নেশা করে ও জুয়া খেলে। সংসারে আয় রোজগার বলতে আমরা মা মেয়ে দু’জন গার্মেন্টসে চাকরি করি, চাকুরির বেতন থেকে জোর করে নিয়ে যায় টাকা মাদক ও জুয়ার আসরে যাওয়ার জন্য। আমরা অনেক সময় থানায় ফোন করি, কিন্তু মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধ হয়নি। আমি প্রশাসনের কাছে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি।
কদমরসুল এলাকার একজন
প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাকে মাদক ও জুয়ার আসর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাদক ও জুয়ার আসর সবসময় চলছে, চলবে। কৌপ্পার মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধ করার মত কেউ নেই। আপনার সাথে আমার দেখা হয়েছে এটা জানলেও আমার বিপদ আছে। আমিও চাই মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধে প্রশাসনের সুদৃষ্টি। আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদক ও জুয়ার আসর নির্মূল করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
কুটুকপাড়ার আল আমিন বলেন, পাড়ার সমাজপতি সর্দার মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের জন্য ভূমিকা রাখছে না। বরং কিছু অসৎ সমাজপতি সর্দার টাকার কাছে বিক্রি হচ্ছে, বিক্রি হচ্ছে তাদের বিবেক বুদ্ধি। অসৎ সমাজপতিদের প্রশ্রয়মূলক নিরবতা ধ্বংস করছে যুব সমাজকে। আমি কৌপ্পার আগে অসৎ সমাজপতি সর্দারদের বিচার চাই এবং মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।
মাদক ও জুয়ার আসর সম্পর্কে কৌপ্পার বড় ভাই এ্যাপোলো বলেন, এটা সম্পর্কে আমি অবগত নয়, আমার ভাই মাদক ও জুয়ার সাথে জড়িত থাকলে আমি নিজেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কবর।
মাদক ও জুয়ার আসর সম্পর্কে কৌপ্পার জমিদার মোঃ খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, এটা সম্পর্কে আমি কিছু জানি না, আমি লিগ্যাল কাজের জন্য ভাড়া দিয়েছি, আমি ভাড়া নিয়ে চলে আসি।
সীতাকুণ্ড থানা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মজিবুর মুঠোফোনে মাদক ও জুয়ার আসর সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিবেদককে বলেন, মাদক ও জুয়ার আসর সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। এখন আপনার কাছ থেকে জানালাম, আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।

















