বিশেষ প্রতিনিধি | কুমিল্লা
রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এখন যেন টাকার বিনিময়ে ‘বিক্রির মাল’! কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসকে ঘিরে উঠেছে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ, যা পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মোঃ জয়নাল আবেদিন শাওন। জানা গেছে, মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি একটি ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করেছেন, যদিও তার জমা দেওয়া কাগজপত্রে ছিল গুরুতর অসঙ্গতি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো তার মায়ের নাম তিনটি আলাদা ডকুমেন্টে তিনভাবে লেখা থাকলেও, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে!
নির্বাচন কমিশনের কঠোর বিধি অনুযায়ী, ব্যক্তিগত তথ্যের সামান্য অসঙ্গতিতেও আবেদন বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু বরুড়া নির্বাচন অফিসে যেন চলছে উল্টো চিত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলেই ✔ ভুল তথ্য ‘সংশোধন’ হয়ে যায় ✔ অসম্পূর্ণ কাগজপত্র ‘পূর্ণ’ হয়ে যায় ✔ এমনকি ভুয়া তথ্য দিয়েও তৈরি হয় বৈধ এনআইডি
এক কথায়, আইন এখানে কাগজে বন্দি বাস্তবে চলছে টাকার রাজত্ব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অফিসের ভেতরে একটি শক্তিশালী দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করে দ্রুত এনআইডি বানিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ আছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে, যারা নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।যদি না হয়ে থাকে তাহলে একই ব্যক্তি মায়ের নাম ৩ জায়গায় ৩ রকম হলে অনলাইন আবেদন করা সম্ভব না। একমাত্র নির্বাচন অফিস তাদের সার্ভার ব্যবহার করেই তা করা সম্ভব। এতেই স্পষ্ট যে এই অফিসের কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া এনআইডি ইস্যু করা হলে তা শুধু প্রশাসনিক দুর্নীতিই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
কারণ, একটি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব খোলা, জমি কেনাবেচা, এমনকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাও সম্ভব
অর্থাৎ, একটি এনআইডি হয়ে উঠতে পারে অপরাধের লাইসেন্স!তাই এই নির্বাচন অফিসের সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাতীয় ভাবে আইনি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করার দায়িত্বে, সেখানে যদি সেই পরিচয়ই টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয় তাহলে পুরো ব্যবস্থাই ধ্বংসের মুখে পড়বে।
তারা অবিলম্বে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র যা একজন নাগরিকের অস্তিত্বের সরকারি স্বীকৃতি সেটি যদি হয়ে যায় ঘুষের বিনিময়ে পাওয়া একটি ‘পণ্য’



















