বরুড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ‘মিষ্টি খাওয়ার’ ঘুষ! শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিককে হুমকি দিলেন এক নেতা।
ফেল করা ছাত্রকে টাকার বিনিময়ে ভর্তিঃ বেপরোয়া ঘুষখোর শিক্ষক মামুন।……. ধারাবাহিক পর্ব-১
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লাঃ
কুমিল্লার বরুড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতি ও প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মামুন কর্তৃক ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করা এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে ‘মিষ্টি খাওয়ার’ নাম করে ৩০০ টাকা আদায় করে তাকে ভর্তি করানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এই দুর্নীতির বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাইয়্যেদা আক্তারকে অবহিত করা হলে তিনি ব্যবস্থা না নিয়ে বরং অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় ঘুষখোর শিক্ষক মামুনের পক্ষ নিয়ে বরুড়া পৌরসভা ৫নং ওয়ার্ড সাহার পদুয়া গ্রামের জাকির কমিশনার নামে একব্যক্তি তার ব্যবহারিত ০১৭৭০-০৮০০০৮ নাম্বার দিয়ে দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশনের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধিকে চরমভাবে হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়:
বরুড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্য বিদ্যালয় থেকে আসা ৫ম শ্রেনীতে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ভর্তির আশ্বাস দেন শিক্ষক মামুন। বিনিময়ে তিনি ৩০০ টাকা দাবি করেন এবং এটিকে ‘মিষ্টি খাওয়ার টাকা’ হিসেবে অভিহিত করেন। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি স্কুলে ভর্তিতে কোনো টাকা নেওয়ার বিধান না থাকলেও মামুনের এমন কর্মকাণ্ডে অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হুমকির ঘটনা:
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাইয়্যেদা আক্তারকে ফোন করলে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এর কিছুক্ষণ পরই সাহারপদুয়া গ্রামের জাকির কমিশনার নামক ব্যক্তি নিজেকে বড় মাপের নেতা পরিচয় দিয়ে ওই সাংবাদিকের মুঠোফোনে কল করেন। তিনি নিজেকে শিক্ষক মামুনের ক্লাসমেট পরিচয় দিয়ে মামুনের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে বরুড়া এলাকায় আসতে বাধা এবং হুমকি দেন।
এই ঘটনায় কুমিল্লার সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। একজন সরকারি শিক্ষকের দুর্নীতি ঢাকতে রাজনৈতিক নেতার এমন নগ্ন হস্তক্ষেপকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
আইনি প্রক্রিয়াঃ
এই হুমকি বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং বরুড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান, বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি করতে কোনো ধরনের টাকা পয়সার প্রয়োজন নাই। অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইদিকে হুমকিদাতা শিক্ষক মামুন তার ক্লাসমেট এক নেতাকে দিয়ে দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন সাংবাদিককেব অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি প্রদান করলে, ভুক্তভোগী সাংবাদিক শিক্ষা উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক,জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ হেডকোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ এবং বরুড়া থানায় জিডি দায়ের করেন। বরুড়া থানার জিডি নং- ৭৪৫.


















