কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ওরশে তৌহিদী জনতার হামলায় ৩শ জনের খাবার নষ্ট ও নারীসহ ১৩ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার হেসাখাল ইউপির হিয়াজোড়া গ্রামের মরহুম সুবেদার আব্দুর রহিম মাইজভান্ডারীর ২৬তম মৃত্যুবাষিকী উপলক্ষে ওরশে ও গান-বাজনার সময় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে গাজিপুর জেলার কাশিমপুর উপজেলার পানিশাইল গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে সোহেল রানার মাথায় দেশীয় অস্ত্রের আঘাাতে ৫ টি সেলাই ও কুমিল্লার হোমনার পথেরগান্ধি গ্রামের রাজু চৌধুরীর ছেলে শাহিন সরকার হিয়াজুড়ী বাউল শিল্পীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, দায়িত্বরত ডাক্তার গোলাম মোস্তফা।
বাউল শিল্পী শাহিন সরকার ও সোহেল রানা বলেন, কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আ: রহিমের ভক্তরা এখানে এসে ওরশ ও গান-বাজনার আয়োজন করতেন। এটি ২৬ তম ওরশ। সকালে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে নারী ও পুরুষগন আসতে থাকে। তাদের জন্য দুপুরের খাবার রান্না করা হয়। একদল ওহাবী এসে এলোপাতাড়ি তান্ডব চালিয়ে প্রথমে সৈয়দ গোলাম মঈন উদ্দিন টিপু হিয়াজুড়ীর বাড়ীর গেইট, বাড়ীঘর ভাংচুর ও ভক্তদের উপর হামলা চালিয়ে রান্না করা খাবার নষ্ট করে ফেলে দেন।
সৈয়দ গোলাম মঈন উদ্দিন টিপু হিয়াজুড়ী বলেন, তার দাদা হুজুর সুবেদার আ: রহিম মাইজভান্ডারীর ২৬তম মৃত্যুবাষিকী উপলক্ষে ওরশ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার অনেক ভক্তদেরকে বলা হয়েছে ওরশ বন্ধ। ওহাবীরা ওরশ করলে সন্ত্রাসী হামলা চালাবে।
সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে স্বল্প পরিসরে ওরশ করতে। তাই ভক্তরা নিজেরা এসে ওরশ করতে চাইলে তাদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। হামলার সময় তিনি বাড়ীতে ছিলেন না।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি একে ফজলুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে হামলা কারিরা চলে যায়। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য-গত ২৩ সেপ্টেম্বর উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অফিসার ইনচার্জ এর নিকট ওরশ বন্ধ ও টিপুর ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড বন্ধের দাবীতে স্মারকলিপি দেন।


















