নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হলেও, সেখানে জন্ম নিবন্ধন কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল অনিয়মের জাল। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা নয়ন-এর বিরুদ্ধে সরকারি ফি’র তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ৪৫ দিনের নিচে জন্ম নিবন্ধন বিনামূল্যে এবং সর্বোচ্চ ফি ৫০ টাকা হলেও উদ্যোক্তা নয়ন প্রতিটি আবেদনের জন্য ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে ‘সার্ভার ডাউন’ কিংবা ‘কাগজপত্রে ত্রুটি’র অজুহাতে মাসের পর মাস ঘুরানো হয়। কিন্তু দাবিকৃত টাকা দিলেই মাত্র কয়েক দিনে মিলে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত সনদ।
ভুক্তভোগী এক দিনমজুর বলেন, “আমার বাচ্চার জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই গিয়েছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী ফ্রি হওয়ার কথা থাকলেও নয়ন আমার কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তিনবার ঘুরেও কাজ হয়নি।” আরেক ভুক্তভোগী জানান, সংশোধনের জন্য সরকার নির্ধারিত ১০০ টাকার বিপরীতে তার কাছ থেকে ১৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, যার কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি সরাসরি দুর্নীতি এবং ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনা নীতিমালার লঙ্ঘন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) জানান, “জন্ম নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। উদ্যোক্তা নয়নের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে তার লাইসেন্স বাতিল এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীরা এই ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’ বন্ধে এবং দোষী উদ্যোক্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

















