কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভা ১নং ওয়ার্ড শ্রীপুর দক্ষিণ পাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদের বর্তমান সেক্রেটারি আবুল হাসেম প্রকাশ আবুইল্লা হাসেম। যে কিনা একাধারে সন্ত্রাসী, চাদাবাজ, চরিত্রহীন, কয়েকজন নারী ক্যালেংকারির সাথে জড়িত এবং সুধের ব্যবসা পরিচালনাকারী কানন মাল্টিপারপাস নামক এনজিওর পরিচালক ছিলো সে কি করে একটা জামে মসজিদের মত আল্লাহর ঘরের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করে তা এখন জনমনে প্রশ্ন!
জানাযায়, এই আবুল হাসেম প্রকাশ আবুইল্লা হাসেম ডিস ব্যবসার সাথে জড়িত, এবং সুধের ব্যবসার সাথে জড়িত, অসংখ্য নারী ক্যালেংকারির সাথে জড়িত, সুধ, ঘুষ, চাঁদাবাজি ও অসংখ্য জায়গায় সন্ত্রাসের ত্রাশ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি আবুল হাসেম প্রকাশ (আবুইল্লা হাসেম) নামক এই ব্যক্তি।
ইসলাম বিষয়ক গবেষক মুফতি আবু দারদা জানান, মসজিদ কমিটিরি সেক্রেটারি তো দূরের কথা মসজিদ কমিটির সদস্য হতে হলেও তার যা যোগ্যতা থাকা লাগবে তা হচ্ছে, তাকে অবশ্যই ইমানদার, সৎ, আদর্শবান হতে হবে এবং পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে,

» পদের লোভ থাকা যাবে না। রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আমরা কোনো পদপ্রার্থী বা পদপ্রত্যাশীকে পদ দিই না।’
(বুখারি: ৭১৪৯)
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন অযোগ্যকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তখন কিয়ামতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকো।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৯৬)
অধিকাংশ মসজিদে শিরক বিদ‘আত চালু থাকার অন্যতম কারণ হল, অযোগ্য লোকদের দ্বারা মসজিদ পরিচালিত হওয়া। এমনকি সূদখোর, ঘুষখোর, নিয়মিত ছালাত আদায় করে না এমন ব্যক্তিও মসজিদ কমিটির সদস্য হয়। এ সমস্ত নির্লজ্জ ব্যক্তিরাই আবার এই পদের জন্য বেশী লালায়িত। অথচ তারা নিজেদের পরিবারকে চৌকি দিতে পারে না। তাদের মুখে দাড়ি পর্যন্ত থাকে না। অনেকে বিড়ি, সিগারেট ও মদখোরও আছে। তারা যা ইচ্ছা তাই করে। ইমামের প্রতি চোখ রাঙ্গিয়ে হক কথা বলতে দেয় না। আপোসহীন বক্তব্য পেশ করলে এবং তাদের বিরুদ্ধে গেলে তাৎক্ষণিক ইমামকে চাকরিচ্যুত করে। তারাই বড় আলেমের ভাব দেখায়। শরী‘আতে না থাকলেও তাদের মন যা চায়, তাই শরী‘আত মনে করে চালিয়ে দেয়। রাসূল (ছাঃ)-এর ভাষায় এরাই মূর্খ পন্ডিত, যারা নিজেরা পথভ্রষ্ট এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করে। তাদের দাপটেই মসজিদগুলো বর্তমানে প্রচলিত নোংরা রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সমাজের লোকদের কাছে এ সমস্ত দুর্নীতিবাজ ও ক্রিমিনালদের কোন মর্যাদা নেই। তাদের ডাকে মানুষ সাড়াও দেয় না। ফলে তারা মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ, জানাযা, ইসলামী সম্মেলনকেই প্রধান মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেছে। এ সমস্ত সমাজ নেতারা চিরদিনই এলাহী বিধানের ঘোর বিরোধী ও বাতিলের প্রতিনিধিত্বকারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِىْ قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيْرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوْهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُوْنَ.
‘অনুরূপ আপনার পূর্বে কোন জনপদে যখনই কোন ভয়প্রদর্শকারী পাঠিয়েছি, তখনই সমৃদ্ধশালী সমাজপতিরা বলেছে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে একটি আদর্শের উপর পেয়েছি। আর আমরা তাদেরই অনুসরণ করব’ (যুখরুফ ২৩)।
শ্রীপুর বায়তুল আমান জামে মসজিদের প্রচার সম্পাদক মাইন উদ্দিন খাজা জানান, মসজিদটি নির্মান থেকে শুরু করে এই হাসেম অনেক কষ্ট করেছে পরে সমাজের লোক বিবেচনা করে তাকে সেক্রেটারির পদ দিয়েছেন এবং আমাকে প্রচার সম্পাদক বানিয়েছেন।
এইদিকে শ্রীপুর দক্ষিণ পাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদের সভাপতি হাসিবুল আলম সুভাস জানান, আমাদের মসজিদটি নির্মান ২০১৪ সালের প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই হাসেম সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করতেছে, আমরা আসলে তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগের কথা জানিনা।
উক্ত মসজিদের পেশ ইমাম সৈয়দ আহম্মদ জানান, কমিটির ব্যাপারটা আসলে সমাজ দেখে আর ইসলাম সব সময় মানুষকে ভালো পথে ডাকে এবং আবুল হাসেমের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নাই শুধু আজ ২৫ অক্টোবর শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় বক্তব্যে তিনি কি বলেছেন তা এলাকার মসল্লিদের কাছ থেকে জেনে নিতে বলেছেন।
যদিও এই হাসেম প্রকাশ আবুইল্লা হাসেম ২০১৪ সালের আগে থেকেই সুধের ব্যবসা ও ডিস ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে তারপরেও তারা নাকি কেউই জানেনা। এটা কি সত্য জবাব হতে পারে?

















