এম এ কাদের অপু : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সুমি আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত গৃহবধূর মা রোকিয়া বেগম বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় গৃহবধূর স্বামী মো. মতিন গাজী (২৮), শ্বশুর মো. হারুন গাজী (৫৮), শাশুড়ি রাবেয়া বেগম (৫০) এবং নানি-শাশুড়ি রমা বেগম (৩০)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা এজাহার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ৫ বছর আগে মতলব দক্ষিণ থানার দক্ষিণ কালিকাপুর গ্রামের মো. মতিন গাজীর সাথে কচুয়া উপজেলার সেহচর গ্রামের রোকিয়া বেগমের মেয়ে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তাবাচ্ছুম (৪) ও আলিফ (২) নামের দুইটি সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। পারিবারিক নানা অজুহাতে ও যৌতুকের দাবিতে সুমিকে মারধর করা হতো। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক হলেও আসামিদের নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ০১:০০ টার দিকে গৃহবধূ সুমি আক্তার শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কেরু ট্যাবলেট (বিষ) সেবন করেন। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে বাবুটী এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর দিন ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নিহত গৃহবধূর মা বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় (মামলা নং- ৫৩) দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মতলব দক্ষিণ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) শ্রী সুজিত চন্দ্র দে-কে। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
এইদিকে গুঞ্জন উঠেছে আসামীরা বিভিন্ন ভাবে পোস্টমর্টেম রিপোর্টটি ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।