বিশেষ প্রতিনিধি:
মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জন্ম সনদের বয়স সংশোধন, নাম পরিবর্তন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য গোপন করে প্রাপ্তবয়স্কদের নতুন করে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান এমন অসংখ্য গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ০৫ নং ঝালম ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মোঃ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও গোপন সূত্রের তথ্য মতে, সরকারি এই দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির একটি সুসংগঠিত চক্র গড়ে তুলেছেন। নিয়মনীতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সরকারি তথ্যভান্ডারে জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি ইচ্ছেমতো জন্ম তারিখ ও নাম পরিবর্তন করে দিচ্ছেন, যা আইনি ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি।
সরকারি নিয়ম এড়িয়ে টাকার বিনিময়ে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের নতুন জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে দেওয়ার মতো মারাত্মক অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল বলছেন, বর্তমান সরকার যখন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ডিজিটাল সেবাকে নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, ঠিক সে মুহূর্তে সরকারি বেতনে নিয়োজিত একজন কর্মচারীর এমন দুর্নীতি সরকারের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এ ধরনের অসচ্ছতা ও অপকর্মের কারণে সাধারণ মানুষ সেবা বঞ্চিত হচ্ছে এবং সরকারের জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তি মলীন হচ্ছে।
ঝালম ইউনিয়নের সচেতন জনগণ ও সেবাপ্রার্থীরা অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষী কর্মচারী মোঃ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি এবং প্রশাসনিক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরবে এবং সরকারের সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকবে।
একজন সরকারি কর্মচারীর এমন ধৃষ্টতা এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে ঝালম ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ ও সেবাপ্রার্থীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে মোঃ রেজাউল করিমকে পদ থেকে বরখাস্ত করে তাঁর সমস্ত অপকর্মের উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তাই ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা রক্ষা ও সরকারের সুনাম রক্ষার্থে অবিলম্বে দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
এইদিকে এই ইউনিয়নের ৪ জন নাগরিক তার এমন কর্মকান্ডের কাছে হেরে ৯ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে স্থানীয় সরকার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান।
অভিযুক্ত রেজাউল করীম কে তার মুঠোফোনে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান তার ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সাথে কথা বলার জন্য। এতে করে বুঝা যায় তার ইউনিয়ন পরিষদের সচিবও তার এই অপকর্মের পক্ষে আছেন এবং এবিষয়ে বিস্তারিত আসছে ২য় পর্বে।